ঐ যে মস্ত পৃথিবীটা চুপ করে পরে রয়েছে ওটাকে এমন ভালোবাসি, ওর এই গাছপালা, নদী, মাঠ, কোলাহল, নিস্তব্ধতা, প্রভাত, সন্ধ্যা, সমস্তটা দু-হাতে আখড়ে ধরতে ইচ্ছে করছে। মনে হয় পৃথিবীর কাছ থেকে আমরা যে সব পৃথিবীর ধন পেয়েছি, এমন ধন কি কোন স্বর্গ থেকে পেতাম? স্বর্গ আর কি দিত জানিনে… কিন্তু এমন কোমলতা-দুর্বলতাময়, এমন সকরুন আশঙ্কা ভরা, অপরিনত এই মানুষ গুলির মতো এমন আপনার ধন কোথা থেকে দিত? আমাদের এই মাটির ‘মা’, আমাদের এই পৃথিবী, এর সোনার শষ্য ক্ষেত্র, এর স্নেহশালিনী নদী গুলির ধার, এর সুখ-দুঃখময় ভালোবাসার লোকালয়ের মধ্যে এই সমস্থ দরিদ্র মর্ত হ্নদয়ের অশ্রুর ধন গুলিকে কোলে করে এনে দিয়েছে।আমরা হতভাগ্যরা তাদের রাখতে পারিনে, বাঁচাতে পারিনে, নানান অদৃশ্য শক্তি প্রবল বেগে এসে বুকের কাছ থেকে ওদের কেড়ে নিয়ে চলে যায়, কিন্তু বেচারা পৃথিবীর যতদুর সাধ্য সে করছে। আমি এই পৃথিবীকে বড় ভালোবাসি-এর মুখে ভারী একটি সুদুরব্যাপী বিষাদ লেগে আছে- যেন এর মনে-মনে আছে আমি দেবতার মেয়ে, কিন্তু দেবতার ক্ষমতা আমার নেই। আমি ভালোবাসি কিন্তু রক্ষা করতে পারিনে, জন্ম দেই কিন্তু মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচাতে পারিনে। এই জন্যে স্বর্গের উপর আড়ি করে, আমি আমার দরিদ্র মায়ের কোলে বসে আছি, এত অসহায়, অসমর্থ, অসম্পৃর্ন, ভালোবাসার সহস্র চিন্তায় কাতর বলেই।

Leave a Reply