ভারতের জনসংখ্যার শতকরা এক ভাগ মানুষও তাঁদের বিরোধ নিষ্পত্তি বা ক্ষোভ নিবারন অধিকার প্রতিষ্টার জন্য আদালতের দ্বারস্থ হন না। যারা আদালতে আসেন তাঁদের ৮০ শতাংশের বেশী মানুষ সুবিধাভোগী শ্রেনী উচ্চবিত্ত বা উচ্চ মধ্যবিত্ত মানুষ। দরিদ্র শ্রেনীর মানুষ যারা আদালতে আসেন তাঁরা কোনো মামলার আসামি বা ফরিয়াদি।
সকলের জন্য ন্যায় বিচার” কথাটি চিন্তা করে ১৯৭৬ সালে সংবিধান সংশোধন করে ৩৯ (ক) অনুচ্ছেদ যুক্ত করা হয়েছে। ভারতীয় সংবিধানের ১৪ অনুচ্ছেদে আইনি সমানাধিকারের কথা বলা হয়েছে। বলা হয়েছে যে, সুবিধাভোগী শ্রেনী ও সাধারন মানুষের মধ্যে আইনের দৃষ্টিতে কোন বৈষম্য থাকবে না। ৩৯ (ক) অনুচ্ছেদে একই রকম ভাবে রাষ্ট্রকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে প্রত্যেক নাগরিক ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে, যেন সুবিচার পায়।
আইনি-সাম্যের আদর্শ যা শুধুমাত্র কথার কথা মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল, তা Legal Services Authorities Act, 1987 চালু হবার সাথে সাথে সেই সাম্যের আদর্শ যা সংবিধানের ১৪ ও ৩৯(ক) অনুচ্ছেদে লিখিত ছিল, তা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কাজ শুরু করা হয়েছে। সমাজের দুর্বল অংশের অগনিত মানুষকে যাতে আর মুখ বুজে বলবানের অন্যায় অত্যাচার সহ্য করতে না হয়, তাঁরাও যাতে অর্থনৈতিক ও অন্যান্য অবিচারের বিরুদ্ধে বিনামূল্যে আইনের সাহায্য পেতে পারেন সেই লক্ষ্যে জাতীয় স্থরে “জাতীয় আইনসেবা কর্তৃপক্ষ”, রাজ্য স্থরে “রাজ্য আইনসেবা কর্তৃপক্ষ”, জেলা স্থরে “জেলা আইনসেবা কর্তৃপক্ষ” ও মহকুমা স্থরে “মহকুমা আইনসেবা কর্তৃপক্ষ” কাজ করে চলেছেন।

(১) যেকোন মহিলা বা শিশু।
(২) তপশিলী জাতি ও উপজাতি ভুক্ত যে কোনো ব্যাক্তি।
(৩)দরিদ্রসীমার নিচে বসবাসকারি (B.P.L) যেকোনো ব্যাক্তি।
(৪)যারা ঋনের দায়ে বেগার খাটছেন।
(৫)শিশু শ্রমিক।
(৬)মানসিক দিক থেকে অসুস্থ বা শারিরীক  ও  অন্যান্য ভাবে প্রতিবন্ধী ব্যাক্তি।
(৭)সাম্প্রদায়িক বা জাতি দাঙ্গায়, খরায়, বন্যায়, ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্থ যে কোনো ব্যাক্তি।
(৮)যাঁদের বার্ষিক আয় এক লক্ষ টাকার বেশী নয়।
(৯)কোন রক্ষনমূলক আবাস, কারাগার, জুভেনাইল হোম, মানসিক হাসপাতাল, মানসিক নার্সিংহোম সমেত কোন্রুপ হেপাজতে আছেন এমন ব্যাক্তি।

(১) আপনি যদি কোন মামলায় পক্ষ বা প্রতিপক্ষ হন তবে পাবেন, উকিলবাবুর ফী, সাক্ষীর খরচ, নোটিশের খরচ, কোর্ট ফী, মামলার নথী তৈরী ও অন্যান্য আনুষঙ্গীক খরচ ইত্যাদি।
(২)  আপনার পক্ষ সমর্থনের জন্য উকিল নিয়োগ করে দেওয়া হবে।
(৩) আদালতের কোনো রায়, আদেশ, সাক্ষীর বয়ান বা দলিলের প্রত্যয়িত নকল নেয়ার খরচ ইত্যাদি।
(৪) আইন সন্মত কোনো দলিল তৈরির যাবতীয় খরচ।

বিনামূল্যে আইনি সাহায্য ও পরামর্শ পেতে রাজ্য স্থরে “রাজ্য আইনসেবা কর্তৃপক্ষ”, জেলা স্থরে “জেলা আইনসেবা কর্তৃপক্ষ” ও মহকুমা স্থরে “মহকুমা আইনসেবা কর্তৃপক্ষ” এর সাথে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারেন। অথবা আপনার এলাকার আইন সেবক (Para Legal Volunteer) বা গ্রামীণ আইনসেবা কেন্দ্র (Village Legal Care & Support Centre) এ যোগাযোগ করতে পারেন।