বিগত ৪টা সেপ্টেম্বর ২০১৮ইং ত্রিপুরা রাজ্যে ত্রি-স্থরীয় পঞ্চায়েতের ৩৩৮৬টি আসনে উপ-নির্বাচন ঘোষণা করা হয়েছে। রাজ্যে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর গ্রাম পঞ্চায়েত, পঞ্চায়েত সমিতি এবং জেলা পরিষদ গুলিতে পদত্যাগের উৎসব চলে, তাতে সক্রিয় ভাবে শ্বাসক দলের নেতা-নেত্রীরা অংশ গ্রহন করেন এবং একপ্রকার ধমিকি-হুমকি ও চাপের মুখে পদত্যাগ উৎসব পালিত হয় সারা রাজ্যে।
এই গনহারে পদত্যাগের ফলে রাজ্যের পঞ্চায়েত ব্যাবস্থাতে অচলা অবস্থা বিরাজ করে এবং গ্রামীন স্থরে উন্নয়ন মূলক কাজে একপ্রকার অচলাবস্থা ঘনীভূত হয়। সেই অচলা অবস্থা কাটিয়ে উঠতেই এই উপ-নির্বাচন উৎসবের আয়োজন। কিন্তু নির্বাচনের দিনক্ষন যত এগিয়ে আসছে ততই নির্বাচন উৎসবটা অন্যরুপ নিচ্ছে।
ভারতীয় সংবিধানের বিধি নিয়ম মেনেই যখন রাজ্যে নির্বাচন ঘোষনা দেওয়া হয়েছে তখন বিরোধী দল গুলি সেই নির্বাচনে অংশগ্রহন করবে সেটাই স্বাভাবিক এবং সুস্থ গনতন্ত্রে সুষ্ট এবং নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করা একান্ত আবশ্যক এবং আমরা যারা “Right Wing Politics” (ডানপন্থী রাজনীতিতে) বিশ্বাস করি তারা গণতান্ত্রিক ব্যাবস্থায় অঘাত বিশ্বাস রাখি। দীর্ঘদিন এরাজ্যে “Left Wing Politics” (বামপন্থী রাজনীতি) এর শাসন ছিল এবং আমরা জানি যে কেবল মাত্র বামপন্থীদের (Power comes from the barrel of a gun) মধ্যেই গায়ের জোরে ক্ষমতা দখল করার একটা রিতি আছে এবং সময়ে সময়ে আমরা তা এরাজ্যে দেখেও এসেছি এবং একজন ডানপন্থী চিন্তাধারার মানুষ হিসেবে বরাবরই এসবের সমালোচনা ও প্রতিবাদ করে এসেছি।
কিন্তু লজ্জিত!!! আজ আমি একজন ডানপন্থী চিন্তাধারার মানুষ হিসেবে লজ্জাবোধ করছি… হ্যাঁ আমি মর্মাহত, আমি লজ্জিত…!

কারন, বিগত ১১ সেপ্টেম্বর তারিখ পর্যন্ত উপ-নির্বাচনের প্রার্থীদের মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন ছিল এবং মনোনয়ন জমা দেওয়া নিয়ে শাসক ও বিরোধীদের মধ্যে যে মারপিট ও সন্ত্রাস সারা রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় সংঘটিত হয়েছে যদিও বা বিরোধীরা বেশকিছু আসনে মনোনয়ন জমা দিয়েছিলেন এখন জোর করে, ধমিকি-হুমকি ও চাপের মুখে মনোনয়ন প্রত্যাহার করতে বাধ্য করছেন, এসব কোন ডানপন্থী রাজনৈতিক দলের কাছে কাম্য ছিলনা অন্তত আমরা যারা ডানপন্থী চিন্তাধারায় বিশ্বাস রাখি তাঁরা এধরনের সন্ত্রাসের পক্ষে কোন ভাবেই একমত হতে পারছিনা।
শ্বাসক দলে যারা আছেন তাদের যেহেতু সুষ্ট নির্বাচন প্রক্রিয়ায় বিশ্বাস ছিলনা এবং নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দিতায় করে জয়ি হওয়ার মত মানসিকতাও নেই তাহলে নির্বাচন ঘোষণা না করে মন্ত্রিসভার মাধ্যমে প্রস্তাব এনে পঞ্চায়েত ঘটন করে নিলেই পারতেন তাতে আজ রাজ্যে যে সন্ত্রাসের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে তা থেকে রাজ্যবাসী নিস্তার পেয়ে যেতেন।
মাত্র ছয় মাস আগে যে দল গণতান্ত্রিক পর্যায়ে নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত হয়ে রাজ্যের পঁচিশ বছরের বাম শাসন থেকে রাজ্যবাসীকে মুক্ত করে ক্ষমতায় এসেছিলেন আজ সেই দলের নেতা-নেত্রীরাই গণতান্ত্রিক নির্বাচন পক্রিয়ায় আস্থা রাখছেন না… এটা নিশ্চয়ই জনমনে প্রশ্ন জাগায়।

গনতন্ত্র দীর্ঘ জীবি হউক!!!

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *